প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক নেতা ও জুতা ব্যবসায়ী শফিকুর রহমানকে গুলি করে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বসুন্ধরা শপিংমলের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর দাবি-চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়ায় গুলি করা হয় তাকে। যদিও গুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়ায় গুলি করা হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
পুলিশের দাবি-ঘটনার পর এখানো ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কেউ থানায় আসেননি। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগও দেওয়া হয়নি তাদের পক্ষ থেকে। তবুও তারা সত্যতা উদ্ঘাটনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং আশপাশের দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কারা হামলা করতে পারে, তা জানতে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ শফিকুর রহমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন। জানতে চাইলে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ এই বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে অপরাধীকে শনাক্ত করতে এবং ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুলির ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে গুলির বিষয়ে মুখে কুলুপ দিয়েছেন আশপাশের ব্যবসায়ীরা। কী কারণে গুলির ঘটনা হতে পারে, তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি তারা। অনেকের দাবি, ঘটনার আগেই দোকান বন্ধ করে বাসায় গিয়েছিলেন তারা। ফলে এ বিষয়ে কিছু জানেন।
গুলিবিদ্ধ ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমি আমার দোকানের পাশে বসে ছিলাম। এর মধ্যেই তারা এসে চাঁদার টাকা চাইছে। আমি বললাম, ভাই কীসের চাঁদা চান আপনারা। এরপরই তারা আমার পা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করতেই গুলিটা আমার হাতে লাগে।
তিনি বলেন, আমি বিরোধের রাজনীতি করি না। কারও সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক ঝামেলাও নেই। যারা আমাকে গুলি করেছে, তাদের কাউকে আমি চিনিও না। কখনো তাদের এই এলাকায়ও দেখি নাই। চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়ায় তারা হয়তো আমার ওপর আক্রমণ করেছে। আমি অসুস্থ থাকায় এখনো থানায় যাওয়া হয়নি। সুস্থ হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেব।
আহত শফিকুরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কমফোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শফিকুর রহমান ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ও জুতা ব্যবসায়ী।