সারাদেশ
মাটি খেকো যুবলীগ নেতা সোলায়মান গ্রেফতার
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫,
মাটি খেকো যুবলীগ নেতা সোলায়মান গ্রেফতার
পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ যাবৎ পালিয়ে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি এক যুবলীগ নেতার। ঢাকার ধামরাইয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা ও নাশকতা সৃষ্টির মামলায় অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মাটি খেকো যুবলীগ নেতা সোলায়মান সরকার।
গোপন খবরের ভিত্তিতে ধামরাই থানা পুলিশ চিরুনি অভিযান চালিয়ে উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের জলসা গ্রামে তার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন পর সবেমাত্র বাড়ি ও বাড়ির লোকজনের খোঁজখবর নিতে আসেন সোলায়মান সরকার। সে গাঙ্গুঠিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জলসা গ্রামের আব্দুল কালাম সরকারের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান সরকার ও তার ভাই সরকার হুমায়ুন কোভিদ মিলে এলাকায় গড়ে তুলে সন্ত্রাসের এক রাম রাজত্ব। কেউ মাটি বিক্রি করতে না চাইলে জোরপূর্বক জমির মাটি কেটে নিত এস সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয় জমির চারপাশ ঘেঁষে ১৫-২০ ফিট গভীর করে জমির মাটি কেটে নিত যেন আশপাশের জমির মাটি ধ্বসে পড়ে। তারপর ওই জমির মালিকরা বাধ্য হয় তাদের কাছে স্বল্প মূল্যে মাটি বিক্রি করতে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রভাবিত করে তারা এভাবে অন্যের জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যায়। এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে কয়েকবার তাদের ভেকু মেশিন আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। এমনকি তৎকালীন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মদ হাই জকি নিজেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভেকু মেশিন ধ্বংস ও জব্দ করেন। এরপরও তাদেরকে দমানো সম্ভব হয়নি।
এরপর জুলাই আন্দোলনে তারা দুই ভাই নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলাসহ বিভিন্নভাবে নাশকতা চালিয়ে আফিকুল ইসলাম সাদ নামে এক কলেজ ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এসব মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল সোলায়মান সরকার।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন খবরের ভিত্তিতে ধামরাই থানার এসআই কাউসার সুলতান শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাকে ঢাকাস্থ্য ধামরাই বিশেষ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক কাওছার সুলতান বলেন, সোলাইমান সরকারকে গ্রেফতারের জন্য বহুবার অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। সে বারবার স্থান পরিবর্তন করেছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যাদের সম্পৃক্ততা আছে তাদের কাউকে ক্ষমা করা হবে না। তারা যদি মাটির নিচেও পালিয়ে থাকে সেখান থেকেই তাদেরকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে।
যুবলীগ