ফুকেটের স্থানীয় বাজারে গিটার হাতে গান গাইতেন এক কিশোরী। সামনে থাকত সাধারণ দর্শক, পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেন ক্রেতারা। সেখান থেকেই শুরু। কয়েক বছর পর সেই গিটারই তাঁকে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় মঞ্চে। আর ১৬ বছর বয়সে এসে নেনে রয়্যাল এখন ‘আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট’ এর ২১তম আসরের চ্যাম্পিয়ন। ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়ে ঘোষিত ফলাফলে জয়ী হয়ে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এজিটির ইতিহাসে প্রথম থাই বিজয়ী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
নেনে রয়্যালের আসল নাম রাত্তিকান আমলয়। ছোটবেলায় কম্পিউটার ক্লাবে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে জায়গা না থাকায় স্কুলের সংগীত ক্লাবে যোগ দেন। সেখানেই প্রথম গিটার হাতে ওঠে তাঁর। বয়স তখন প্রায় সাত। এরপর অনলাইনে ভিডিও দেখে দেখে নিজেই গিটার শেখা শুরু করেন। প্রতিদিনের অনুশীলন আর গানের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে তাঁকে নিয়ে যায় মঞ্চে।
টেলিভিশনের বড় মঞ্চে যাওয়ার আগে অবশ্য দীর্ঘ সময় স্থানীয় দর্শকদের সামনে পারফর্ম করেছেন নেনে। ফুকেটের নাকা উইকেন্ড মার্কেটে নিয়মিত গান গাইতেন তিনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই মঞ্চে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় তাঁর। পরে সেখানেই এক মার্কিন পর্যটক নেনের গান শুনে মুগ্ধ হন এবং তাঁর পরিবারকে এজিটির আন্তর্জাতিক অডিশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সহায়তা করেন।
এজিটিতে নেনের প্রথম পারফরম্যান্সেই আসে বড় চমক। দ্য ক্র্যানবেরিজের ‘জম্বি’ গানটি নিজের মতো করে রক ঘরানায় পরিবেশন করেন তিনি। গিটার হাতে তাঁর কণ্ঠ ও পরিবেশনা বিচারকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য করে। চার বিচারকের কাছ থেকেই পান ‘হ্যাঁ’। পরে সেই অডিশন ভিডিও চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বেশি দেখা পারফরম্যান্সগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
এরপর জাজেস কলব্যাকে মিউজের ‘হিস্টেরিয়া’ পরিবেশন করেন নেনে। তবে তাঁর এজিটি যাত্রার সবচেয়ে বড় মোড় আসে কোয়ার্টার ফাইনালে। সাউন্ডগার্ডেনের ‘ব্ল্যাক হোল সান’ গেয়ে বিচারক মেল বি-এর কাছ থেকে পান গোল্ডেন বাজার। ফলে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি।
ফাইনালেও নিজের শক্তির জায়গা রক গানকেই বেছে নেন নেনে। দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের ‘সেভেন নেশন আর্মি’ পরিবেশন করেন নিজের গিটার বাজানোর দক্ষতা দিয়ে। সেই পারফরম্যান্সের পর দর্শকদের ভোটে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ফল ঘোষণার পর নেনে জানান, পুরো প্রতিযোগিতায় তাঁর সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত ছিল ফাইনালের পারফরম্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখন নেনের সামনে আরও বড় স্বপ্ন। নিজের মৌলিক গান ইতোমধ্যে রেকর্ড করেছেন তিনি, যদিও সেগুলো কবে প্রকাশ করবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে সংগীত নিয়েই কাজ করতে চান এই কিশোরী। তাঁর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে সিস্টেম অব আ ডাউন, লিম্প বিজকিট, লিংকিন পার্ক ও দ্য ওয়ার্নিংয়ের মতো রক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করা।
নেনের জয় উদযাপন করছে থাইল্যান্ডও। দেশটির সরকারি পর্যায় থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
