
শাপলানিউজ.কম
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিকেল গড়াতেই বদলে যেতে শুরু করে রাজধানীর চেনা চিত্র। সন্ধ্যায় ব্যস্ত সড়কের পাশে জ্বলে ওঠে ছোট ছোট বাতি, ধোঁয়া ওঠে কাবাবের গ্রিল থেকে। কোথাও ফুচকা-চটপটি, কোথাও ঝালমুড়ি-চাওমিন, আবার কোথাও মেলে পাহাড়ি খাবার। লিখেছেন রিক্তা রিচি
বিকেল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাড়ে ভোজনরসিকের আনাগোনা। সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় অনেকটা অংশজুড়ে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের খাবার। ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি থেকে শুরু করে পাহাড়ি খাবার মুংডি, লাকসু ইত্যাদি পাওয়া যায় সেখানে। পাহাড়ি খাবারের দেখা মেলে মিরপুর-১-এর আনসার ক্যাম্প এলাকায়। মিরপুরের বিভিন্ন জায়গায় বৈচিত্র্যময় স্ট্রিট ফুডের দেখা মেলে। চাপটি, ভর্তা, পিঠা থেকে শুরু করে ভারতীয় বিভিন্ন খাবারও চোখে পড়ে।
রাজধানীর আগারগাঁও, মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, টাউন হল, শ্যামলীতেও পাওয়া যায় মজাদার ও মুখরোচক খাবার। পুদিনা পাতা-তেঁতুলের চাটনিসহ হরেক রকমের চাটনি দিয়ে পানিপুরি, ঝাল ফুচকা, চকলেট ফুচকা, রাজকাচুরি, দই বড়া, কাবাব, লাইভ পিৎজা, মিনি বার্গার থেকে শুরু করে কী নেই! আছে জামের জুস, পাকা আম এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফলের জুস। গত কয়েক বছরে স্ট্রিট ফুড বা পথখাবারের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে, সুস্বাদু ও মজাদার খাবার খাওয়ার জন্য এখন আর নামিদামি রেস্টুরেন্টে যেতে হয় না। খরচ করতে হয় না অঢেল টাকা। সাধ্যের মধ্যে ঘোরা এবং বন্ধুদের নিয়ে জমজমাট আড্ডা দেওয়া যায় ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে।
মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের কথাই ধরুন না। একসময় সেলিমের কাবাবের জন্য বিখ্যাত ছিল এই রোড। এখন সেলিমের কাবাবের পাশাপাশি দই বড়া, বাটিচাট, চিকেন কর্ন স্যুপ, মোমো স্যুপ, কোয়েল পাখির ডিমের হালিমসহ রকমারি খাবারের দেখা মেলে এখানে। দামও হাতের নাগালে। ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে খাওয়া যায় পছন্দের খাবার। আবার তাজমহল রোডের চিলড্রেনস গার্ডেনের পাশ ঘিরে যে ফুডকোর্ট বা খাবার প্রাঙ্গণ আছে সেখানেও অনেক খাবারের দোকানে বৈচিত্র্যময় খাবার, চা ও পানীয় পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে কৃষি মার্কেটের দিকে যেতে যে সড়কটি গেছে সেই সড়কেও অনেক রকমের চায়ের দেখা মেলে। জাপান গার্ডেন সিটি, টোকিও স্কয়ারের সামনেও বিভিন্ন ধরনের খাবারের ছোট ছোট কার্ট রয়েছে। সেখানে ঝালমুড়ি থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভিন্ন কাটের আলুর রিং চিপস, ট্যাকোসও পাওয়া যায়। দাম ২০-১৫০ টাকার মধ্যে।
সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় কলিজা দিয়ে মুড়ি, মাংস দিয়ে ঝালমুড়ি, ডিমের ঝালমুড়ি পাওয়া যায়। উপাদান ও মুড়িভেদে দাম ৩০-১৫০ টাকা। নিউমার্কেটের রুবেল মামা এবং উজ্জ্বল মামার বোম্বাই মরিচের ঝাল দেওয়া ঝালমুড়ি গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন পাঁচ-সাত হাজার টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেন তারা। এ মুড়ি খেতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন অনেকে। আবার অনেকে বাসার জন্য মুড়ি বানিয়েও নিয়ে যান।
তেজগাঁওয়ের বিটাক মোড়ে পাস্তা, চাওমিন, মিনি বার্গার, খ্যাতাপুরি, ঝালমুড়ি, পিঠা, কাবাব খেতে ভিড় জমান অনেকে। আগারগাঁওয়ের সরকারি সংগীত কলেজ থেকে পর্যটন ভবন পর্যন্ত বিশাল জায়গাজুড়ে বিভিন্ন খাবারের কার্ট বা গাড়ি চোখে পড়ে। আইডিবি ভবনের পাশ ঘিরে যে রাস্তা গেছে সেখানেও আখের রস থেকে শুরু করে ভর্তা ও পিঠা, বিভিন্ন ধরনের জুস, মোমো, হালিম, চিকেন বল, পিৎজা, ওয়াফল, বাহারি টক দিয়ে পানিপুরি, ভেলপুরি ইত্যাদি পাওয়া যায়। আগারগাঁওয়ে লাইভ পিৎজা কার্ট রয়েছে। চোখের সামনে পিৎজা তৈরি এবং কীভাবে বেক করছে তা দেখে পিৎজা খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। ২৫০-৫০০ টাকার মধ্যে পিৎজা পাবেন আগারগাঁওয়ের পিৎজা কার্টগুলোয়। খিলগাঁও-এর তালতলাও ভোজনরসিকদের জন্য এক অনন্য স্থান।
ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অনেকটা অংশজুড়ে বিভিন্ন পথের খাবারের পসরা রয়েছে। কাবাব, মোমো, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কোল্ড কফি ইত্যাদি পাওয়া যায় সেখানে। আইসক্রিমের ভ্যান ও দোকানে আইসক্রিমও পাওয়া যায়। ধানমন্ডির-২৭-এর মীনা বাজারের পাশে ওয়াফল, মোমো, পিৎজা, জুস, চাওমিন, পাস্তাসহ ভারতীয় বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। যারা ঝাল ও মিষ্টি মজাদার সব খাবারের স্বাদ নিতে চান তারা অনায়াসে এ জায়গায় যেতে পারেন। ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে পেটপুরে খাওয়া যাবে। অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীতেও এখন পথখাবার জনপ্রিয়। বনানীর পথে পথে ভেলপুরি, চা, ঝালমুড়ির দেখা পাওয়া যায়। নর্দান ইউনিভার্সিটি ও প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির মাঝের রাস্তায় ছোট ছোট অসংখ্য খাবারের দোকান রয়েছে। সেখানে অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। পাওয়া যায় ডিম খিচুড়ি, ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, নুডলস ইত্যাদি।
গত কয়েক বছর ধরে পূর্বাচলের বালু নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা নীলা মার্কেটও বিভিন্ন ধরনের খাবারের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে এ মার্কেট জমে ওঠে। খোলা থাকে মাঝরাত পর্যন্ত। রাতের ঢাকায় ঘুরে বেড়াতে এবং মজাদার পাতিহাঁস ও চাপটির স্বাদ নিতে চলে যেতে পারেন সেখানে। রুমালি রুটি, গরু ও মুরগি ভুনা, হান্ডি বিফ, মাছের বারবিকিউ, বালিশ মিষ্টি, চমচম, রসগোল্লা, সন্দেশ, লেংচা ও রসমালাইও পাওয়া যায়। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিআরটিসি বাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশায় নীলা মার্কেটে যাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা।
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬