
shaplanews.com
মধু ও কালোজিরা- একা শক্তিশালী, কিন্তু একসাথে অপ্রতিরোধ্য!
মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে আছে,
মৌমাছির উদর থেকে নিঃসৃত হয় বর্ণিল পানীয়। এতে মানুষের জন্যে রয়েছে নিরাময়- সূরা আন-নহল, আয়াত ৬৯
আর হাদীসে আছে,
কালোজিরায় আছে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের নিরাময়- আবু হুরায়রা (রা), তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ
অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থেও এই দুইয়ের উপকারের কথা বলা হয়েছে। অতএব রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে এগুলো নিঃসন্দেহে কার্যকরী। কিন্তু কী হবে যদি এই দুটো একসাথে খাওয়া হয়?
মধুতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ফ্ল্যাভোনয়েড। আর কালোজিরায় আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাইমোকুইনোন ও ওমেগা ফ্যাটি এসিড। একসাথে গ্রহণ করলে মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান কালোজিরার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলোকে রক্তে দ্রুত শোষিত হতে সাহায্য করে। যা পরস্পরের শক্তি বাড়ায় অনেকখানি।
Saudi Journal of Biological Sciences-এ ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, কালোজিরা ও মধুর সম্মিলিত প্রয়োগে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের কার্যকারিতা একক ব্যবহারের তুলনায় ৩ গুণ বেশি!
এমনকি মধু ও কালোজিরার মিশ্রণ পাকস্থলীর আলসার সৃষ্টিকারী 'হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি' ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে প্রচলিত অ্যান্টি-বায়োটিকের চেয়েও কার্যকরী!
কালোজিরা ও মধু রক্তে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল LDL এর মাত্রা কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি।
অন্যদিকে, কালোজিরার সাথে মধু ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়। যা ব্লাড সুগার স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে কমায় টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
মধুর গ্লুকোজ মস্তিষ্কের তাৎক্ষণিক জ্বালানি, আর কালোজিরার থাইমোকুইনোন নিউরোপ্রোটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে। এই সমন্বয় ব্রেন ভালো রাখে ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। স্মৃতিক্ষয়ী রোধ আলঝেইমার প্রতিরোধেও সাহায্য করে এই দুইয়ের মেলবন্ধন।
মধু ও কালোজিরার মিশ্রণ ক্ষতিকর পদার্থ থেকে কিডনিকে সুরক্ষা দেয়। এমনকি কিডনি স্টোনের আকার কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৬ সালে Iranian Journal of Kidney Diseases-এ প্রকাশিত নিবন্ধে।
মধু প্রাকৃতিকভাবে এনার্জি বাড়ায়, কালোজিরা বাড়ায় মেটাবোলিজম। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং কমে বাড়তি মেদ।
এছাড়া, মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও কালোজিরার থাইমোকুইনোন একত্রে শ্বেত রক্তকণিকা বাড়ায়। আর রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা বেশি মানে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং রোগ থেকে সুরক্ষা।
***তবে কোনো ক্রনিক ব্যাধি থাকলে শুধুমাত্র এই আর্টিকেল পড়েই মধু ও কালোজিরা সেবন করবেন না। জটিল রোগের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাস গড়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
মধুর আর্দ্রতা গলার খুশখুশভাব কমায়, আর কালোজিরা কমায় শ্বাসনালীর প্রদাহ। শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসনালীর এলার্জি নিরাময়েও ভূমিকা রাখে এই মিশ্রণ।
মধুর পলিফেনল ও কালোজিরার থাইমোকুইনোন দুটোই শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। গবেষণা বলছে, এদের একত্রে দীর্ঘমেয়াদী সেবনে বাত ব্যথা ও শরীরের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ উপশম হয়।
সৌন্দর্য সচেতনদের জন্যেও মধু ও কালোজিরার একত্র সেবন বিশেষ উপকারী। কারণ মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান কালোজিরার অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সঙ্গে মিলে ব্রণ সারায় ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা না থাকলে
খেতে পারেন।
এই মিশ্রণ সকালে খালি পেটে চিবিয়ে বা কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। আর রাতে খেলে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে খাওয়া উত্তম।
কালিজিরা ও মধু খাওয়ার রোজকার ছোট্ট এই অভ্যাসটিই হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের বড় ভিত্তি।
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬