কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলা এবং এর আগে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলা সত্ত্বেও দুই পক্ষের কেউই পরিস্থিতিকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’ রূপ দিতে আগ্রহী নয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। ভিয়েনাভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
পুশতাইয়ের মতে, চলমান এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। বাস্তবতা হলো, ইরান এখনও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরব মিত্র দেশগুলোর দাবি হলো- এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। নিজেদের এই অবস্থান জানান দিতেই ইরান গত কয়েকদিনে দুই বার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা আঘাত হেনেছে, যা মূলত প্রত্যাশিতই ছিল।
সংঘাতের তীব্রতা বাড়লেও দুই দেশই অত্যন্ত মেপে পা ফেলছে বলে উল্লেখ করেন এই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার ধরন এবং আমেরিকার পূর্ববর্তী বিমান হামলার মাত্রা- কোনোটিই ইঙ্গিত করে না যে দুই পক্ষ একটি সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে এগোতে চায়। প্রতিটি হামলাই অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তা থেকে স্পষ্ট যে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো মহাযুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছে তেহরানের নেই।
উলফগ্যাং পুশতাই আরও জানান, ইরান খুব ভালো করেই জানে যে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর (যেমন কুয়েত বা বাহরাইন) ওপর যদি তারা বড় ধরনের কোনো হামলা চালায় এবং এর ফলে যদি ব্যাপক প্রাণহানি বা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে আরব দেশগুলো সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে নেমে পড়বে।
এই বিশ্লেষক যোগ করেন, আমি এই মুহূর্তে জোর দিয়ে বলতে চাই, এখন পর্যন্ত এই লড়াইটি মূলত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সংঘাত হিসেবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আর এই কারণেই আরব অঞ্চলের উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজেদের এই মুহূর্তে বড় কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখা এবং নিজেদের সীমান্ত ও নিরাপত্তা আরও দক্ষতার সঙ্গে রক্ষা করা সহজ হচ্ছে।
