Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ১:৩১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:৪১ এ.এম

কুমিল্লায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ : মে মাসে তিন জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৩৮৫

জাতীয়

কুমিল্লায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ : মে মাসে তিন জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৩৮৫

 

শাপলানিউজ.কম

০৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। চলতি বছরের মে মাসে এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৬ সালে জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার। বর্তমানে জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান এ তথ্য জানান।

আরিফ হাসান বলেন, মে মাসে মারা যাওয়া তিনজনই কুমিল্লার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ২৫ মে ২১ বছর বয়সী এক যুবক, ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী আরেকজন মারা যান। ২১ বছর বয়সী ওই যুবকের এইচআইভি সংক্রমণ ২০২১ সালেই শনাক্ত হয়েছিল। তবে অপর দুজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে।

এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনসহ মোট সাতজন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছেন।

মৃত ওই যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে কুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে কথা হলে আরিফ হাসান আরও জানান, স্বামীর মৃত্যুর আগে তারা তার এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানতেন না। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেও পরীক্ষা করিয়ে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে পারিবারিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন টিবি ও এইচআইভি- উভয় রোগে আক্রান্ত। নতুন শনাক্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সংক্রমণ যৌন আচরণজনিত ঝুঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমেকে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৭৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে কুমেকের এআরটি সেন্টার থেকে ৬১৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

অ্যাডমিন আরিফ হাসান বলেন, আগে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা বেশি পাওয়া গেলেও বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ যৌনবাহিত। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে। এছাড়া পুরুষ যৌনকর্মী, প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং আক্রান্ত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন।

আরিফ আরও বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ সেবার সঙ্গে যুক্ত কাউন্সিলর ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও তারা সেবাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশীর আহমেদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার, রক্ত গ্রহণের আগে যথাযথ স্ক্রিনিং নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ চর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় জীবনবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং আত্মসংযমও এ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, স্কুল-কলেজভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

কুমিল্লা এইচআইভি মৃত্যু


Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333

Email: m.r.01778840333@gmail.com

Web: www.shaplanews.com

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
প্রিন্ট করুন সেভ করুন