বাড়ি যাননি ফয়সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অধিকাংশ চায়ের টঙ দোকান যখন বন্ধ, তখন তিনি খোলা রেখেছেন। ক্রেতা নেই বললেই চলে। তারপরও তিনি আছেন। সংসারের খরচ চালাতে তার দরকার টাকা। তাই তার ঈদও এই দোকানটিকে ঘিরেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিনেও চায়ের দোকান খোলা রেখেছিলেন আরেক দোকানি কানাই। দুধ চা, রং চায়ের পাশাপাশি তার দোকানে মেলে মালটা চা, তেঁতুল চাসহ হরেক পদ। তার দোকানে কেক, পাউরুটি। তবে ঈদের ছুটিতে কলা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

কানাই বলেন, দোকান বন্ধ রাখলে সংসার চলবে কীভাবে? আমার ঈদ মানেই দোকান। দোকান খুললে কিছুটা হলেও বেচাবিক্রি হয়। ঈদের দিনও খোলা ছিল। আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন, শুক্রবার। তারপরও মোটামুটি লোকজন আছে।
৫০ বছর বয়সী মহররমও ঈদ করছেন দোকানেই। তার বাড়ি চাঁদপুর। সিগারেট, পান বিক্রি করে তার দিন চলে। তিনি বলেন, বাড়ি গিয়ে আর কী করব। এখন ভাই ভাইকে দেখে না। ঈদের আর খুশি কই! ঘুরেঘুরে পান-বিড়ি বেচি, আয় দিয়ে খাই। আয় না করলে পেট বাঁচে না।

ফয়সাল, কানাই ও মহররমের দোকানে আধা ঘণ্টায় অন্তত অর্ধ শতাধিক ক্রেতা দেখা গেল। তাদের একজন রনি। তিনি চা পান করতে করতে জানালেন, তার বাসা বকশি বাজার। বন্ধুরা টিএসসি আসবে কিছুক্ষণ পর। অপেক্ষার সময়টি কাটাতে চা খাচ্ছেন। ঈদের ঘোরাফেরায় চা না হলে নাকি তার চলে না।
প্রিয়া রাণী নামে এক তরুণী বলেন, তিনি ইডেনে পড়েন। এবার ঈদে টিকেট কাটার জটিলতায় বাড়ি যেতে পারেননি। আগামীকাল যাবেন। তিনি থাকেন আজিমপুর এলাকায়। তেঁতুলের চায়ের জন্য এসেছেন টিএসসিতে।
