বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮০ দশমিক ৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ২৬ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
এদিকে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৭ দশমিক ১০ ডলারে নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা বাজারে চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো চরমে রয়েছে। শান্তিচুক্তি নিয়ে বারবার আশার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।
উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের দেওয়া তথ্য প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক জানিয়েছেন, আপাতত স্বল্পমেয়াদি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাই উপযুক্ত হবে। তবে শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বাড়তি বিনিয়োগের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে প্রয়োজন হলে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে ফেডের।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের (পিসিই) তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯০ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ২৬ ডলারে নেমে এসেছে।
