ইদের কুরবানি থেকে রেহাই দেওয়া হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আশ্চর্যজনক ‘সাদৃশ্যের’ কারণে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বাংলাদেশের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষকে। ট্রাম্পের নামেই নামকরণ করা মহিষটিকে এখন ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ৭০০ কিলোগ্রামের মহিষটির ক্রিম রঙের শরীর, হালকা সোনালি চুল এবং গোলাপি নাকের কারণে অনেকেই তার সঙ্গে মিল পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তার নামও দেওয়া হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ইদ উদ্যাপনের আগে থেকেই সারা বাংলাদেশ তথা তামাম বিশ্বের সমাজমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে মহিষটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট খোদ ট্রাম্পও সমাজমাধ্যমে উল্লেখ করেন মহিষটির কথা।
ইদে কুরবানি হওয়ার কথা ছিল মহিষটির। কিন্তু তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশকর্তারা জানান, বিরল প্রাণীটিকে সংরক্ষণের জন্য সরকারি নির্দেশনার পর মহিষটিকে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, “পুলিশ এসে আমাদের জানায় যে সরকার মহিষটিকে সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু আমরা সরকারের সঙ্গে কোনও সংঘাত চাইনি, তাই আমরা এটি হস্তান্তর করে দিয়েছি।’’
মনিরুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার হয় তাঁকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে অথবা বিনিময়ে আর একটি মহিষ, ষাঁড় বা গরু দেবে। মাত্র কয়েক দিন আগেই ঢাকার কাছে কেরানীগঞ্জে বাড়িতে ইদের কুরবানির জন্য প্রাণীটিকে কিনেছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মকর্তারা মনে করেন, মহিষটি এখনও অল্পবয়সি এবং আরও বেশ কয়েক বছর বাঁচতে পারে। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাণীটির জন্য ইতিমধ্যেই চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহিষটির প্রাক্তন মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানিয়েছেন, মহিষটির অস্বাভাবিক রূপ দেখে তাঁর ছোট ভাই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে প্রাণীটির নাম দেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, মহিষটি অ্যালবিনো প্রজাতির। উত্ত্যক্ত না করা হলে প্রাণীটি সাধারণত শান্তই থাকে। বিক্রি হওয়ার আগেও মহিষটি কৌতূহলী দর্শনার্থী এবং নেটাদরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষকে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হয়। কারণ, মহিষ সাধারণত কালো চামড়ার হয়ে থাকে। ফলে ‘ট্রাম্প সদৃশ’ প্রাণীটির অস্বাভাবিক চেহারা তাকে অনন্য করে তুলেছিল।
