হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের আলোচনা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শনিবার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জাহাজ চলাচলের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘চীন, জাপান ও পাকিস্তানসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের পর আজ আমরা তথ্য পেয়েছি যে ইউরোপীয়রাও প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেতে রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’
তবে কোন কোন দেশ এ আলোচনায় রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশ বন্ধ করে দেয় ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
এই জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। এছাড়া আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এ রুট ব্যবহার করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরান চীনের জাহাজসহ কয়েক ডজন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরানের প্রণালি ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ নিয়ে সমঝোতার পর, এসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বারবার বলছে, এই প্রণালিতে নৌ চলাচল আর ‘যুদ্ধপূর্ব অবস্থায়’ ফিরবে না।
গত মাসে তেহরান জানায়, জলপথ ব্যবহারের জন্য আরোপ করা টোল থেকে তারা প্রথমবারের মতো আয় করেছে।
শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান ‘পেশাদার ব্যবস্থা’ প্রস্তুত করেছে। তিনি বলেন, এটি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
আজিজি আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ ও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারীরাই সুবিধা পাবে।’ তিনি জানান, বিশেষায়িত সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফিও নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’-এর পরিচালকদের জন্য এই পথ বন্ধই থাকবে। এতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেন।
