গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা
শাপলানিউজ.কম
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা রুটে বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সদরঘাট এলাকায় আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, বাসগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে আগের তুলনায় ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করা হয়েছে। যা বাড়তি ভাড়ার হারের চেয়ে দিগুণ।
উত্তরা থেকে সদরঘাট আসা যাত্রী আরিফুর রহমান বলেন, “আগে যেখানে ৫০ টাকা দিতাম, এখন ৭০ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি প্রশ্ন করতেই কন্ডাক্টরের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৬০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন সাভার থেকে আসা যাত্রী আব্বাস আলী। তিনি বলেন, “ভাড়া বাড়বে এটা জানি, কিন্তু হঠাৎ ২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সাভার থেকে সদরঘাট ৭০ টাকা ভাড়া, কিন্তু চাওয়া হলো ৯০ টাকা। ৮০ টাকা দিয়ে আসলাম। তালিকা চাইলে আজেবাজে কথা শুরু করে দেয় গাড়ির হেলপাররা।”
অন্যদিকে বাস শ্রমিকরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মালিক সমিতি থেকে এখনো নতুন ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা না আসায় তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।
সাভার পরিবহনের কন্ডাক্টর শাকিল বলেন, “আমাদের কাছে এখনো নতুন ভাড়ার তালিকা আসেনি। তাই আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়া আমরা চাই না, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি হয়।”
ভিক্টর পরিবহনের আরেকজন সহকারী দাবি করেন, “অনেকে ভাড়া না জেনে অভিযোগ করে। এতে কথা কাটাকাটি হয়।”
বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধির পর যথাযথ ও কার্যকর মনিটরিং না থাকলে অনিয়মের প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে দ্রুত বাসে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে টানিয়ে দিতে হবে।” পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করারও আহ্বান জানান তিনি।
সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই বাস ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
