
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটে বেড়েছে লঞ্চশ্রমিক ও কুলি-মজুরদের ব্যস্ততা। পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে ঈদ ছাড়া যেন প্রাণহীন থাকে সদরঘাট। ঈদ উপলক্ষে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সরগরম পুরো এলাকা। কেউ কাঁধে ব্যাগ, কেউ পরিবারের হাত ধরে ছুটছেন লঞ্চের দিকে। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে যেন আবার চেনা ছন্দে ফিরেছে সদরঘাট।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। দিনশেষে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৭৫ ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।
সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে সদরঘাটের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ ছিল, এখন সেখানে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রী হয়রানি এমন ঘটনা যেন না ঘটে তা নিয়ে কড়া নির্দেশনা আছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা রাখা হচ্ছে।’
ফারহান-৭ লঞ্চের ম্যানেজার হাজী মো. ফারুক হাসান বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে এটা সত্যি। তবে ঈদের সময় এলে সেই পুরোনো চাপ আবার ফিরে আসে। এখন থেকেই যাত্রী বাড়ছে, ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত চাপ অনেক বেশি হবে। আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়।’
তাসরিফ-৩ লঞ্চের কর্মী ইবাদত বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রী ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে মালপত্র ঠিক রাখা সব মিলিয়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। তবে ঈদের সময় এমন ব্যস্ততা থাকবেই, এটাকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই নেই।’
যাত্রীরা বলছেন, আগের তুলনায় এবার তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি ফেরা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো অভিযোগ চোখে পড়েনি। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
চাঁদপুরগামী যাত্রী অঙ্কন বলেন, ‘বছরের এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করি। যত কষ্টই হোক, ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারার অনুভূতিটা অন্যরকম। ভাড়া বেশি নেওয়ার চিত্র আমাদের চোখে পড়ছে না এটা ভালো লাগছে। ভিড় একটু বেশি হলেও সবাই কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।’
বরিশালগামী যাত্রী রেহানা বেগম বলেন, ‘আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম, কারণ শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। ভিড় অনেক, তবুও একটা স্বস্তি আছে পরিবারের কাছে ফিরতে পারছি। ছোট বাচ্চা নিয়ে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, তবে ঈদের আনন্দের কাছে তা কিছুই না।’
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. মুবারক হোসেন বলেন, ‘সদরঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠানোর জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কেবিনের টিকিট নিয়ে যেন কোনো কালোবাজারি না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।’
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
Copyright © 2026 Shapla News. All rights reserved.