Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১২, ২০২৬, ১১:০১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৬, ৪:১৭ এ.এম

হাসপাতাল ও স্কুল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি ইরানের

বিশ্ব

হাসপাতাল ও স্কুল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি ইরানের

shaplanews.com
০৩:০০, ০৩ মার্চ ২০২৬
facebook sharing button

ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও স্কুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

সোমবার (২ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। তারা হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা এমনকি সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভগুলোকেও রেহাই দিচ্ছে না।’ তিনি একে মানবতার ভবিষ্যতের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায় ও আন্তর্জাতিক আইনের জঘন্য লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালের ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বিভাগটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নার্সদের দ্বারা শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভবন ও যোগাযোগ অ্যান্টেনা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পীর হোসেন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে একটি চিঠি লিখে শিশু ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর ওপর হামলার স্পষ্ট নিন্দা দাবি করেছেন। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী এসব স্থাপনা রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) -এর প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস এই ক্ষয়ক্ষতির খবরকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও তেহরানের খাতাম আল-আম্বিয়া, মোতাহারি ও ভ্যালিয়াসর হাসপাতালের আশেপাশে সরাসরি হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেলে তেহরানের মেডিকেল জরুরি পরিষেবার প্রধান ভবনে বোমাবর্ষণে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। শুধু তেহরান নয়, পশ্চিম ইরানের আহভাজের আবুজার শিশু হাসপাতাল ও সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন প্রদেশের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও এই হামলার কবলে পড়েছে।

হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে। সেখানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। কর্তৃপক্ষ দুই দিন ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে কাজ করার পর এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া তেহরানের নারমাক এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ দেশজুড়ে ১৩১টি কাউন্টিতে হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৫৫ ছাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিক্ষক সংগঠন ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ স্কুল হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শিশু ও শিক্ষকদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের প্রতিবেদনগুলো তদন্ত করে দেখছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মিনাবের স্কুলে হামলার বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ নিজেই হাসপাতালে হামলার অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল ও অনেক চিকিৎসক এখনও কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

বর্তমানে পুরো ইরানজুড়ে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতালগুলো থেকে রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ হামলা হাসপাতাল স্কুল ইরান


Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333

Email: m.r.01778840333@gmail.com

Web: www.shaplanews.com

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
প্রিন্ট করুন সেভ করুন