
০১ মার্চ ২০২৬,
নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাজধানী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। কিন্তু মেয়র আসে মেয়র যায়, সরকার আসে সরকার যায়, প্রশাসক আসে প্রশাসক যায় কিন্তু রাজধানী থেকে মশা যায় না। কোটি কোটি টাকা মশা মারার জন্য বাজেট হয়। তবুও কোন লাভ হয় না। মশার যন্ত্রনায় একেবারেই অতিষ্ঠ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি বাজারে কেনাকাটা করতে এসে চরম হতাশা আর বিরক্তি নিয়ে এভাবেই ইনকিলাবের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন জুরাইনের বাসিন্দা রোকসানা আক্তার। তার এই আক্ষেপ কেবল একার নয়, বরং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় সব বাসিন্দার প্রতিচ্ছবি। শত শত কোটি টাকা খরচ হচ্ছে মশা মারতে অথচ মশা মরছে না। টাকা যাচ্ছে কোথায় কেউ জানে না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, বংশাল, শান্তিনগর, শনির আখড়া, বাড্ডা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোকসানা আক্তারের মতো অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, মশার কারণে শিশুরা চেয়ারে বসে ঠিকমতো পড়তে পারছে না। তার মতে, ‘ইদানিং মশার উপদ্রব এতো বেড়েছে কয়েল জ্বালাই, স্প্রে করি তবুও কোনও লাভ হয় না। মশা মরে না। অল্প কিছু মরলেও আবার কোত্থেকে যেন চলে আসে। আগে তো মাঝেমধ্যে মশার ওষুধ দিতো, এখন তা-ও বন্ধ। ১০ তলায় থাকি। তারপরও মশার উপদ্রব’।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে তার আট বছরের শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারদিন হাসপাতালে ছিল। তিনি বলেন, ‘রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা খাটে মশারি টাঙিয়ে রাখি। এমনকি মশারির ভেতরেই বাচ্চাদের পড়াশুনা করাই। আগে কাউন্সিলর ছিল, অভিযোগ করতে পারতাম। এখন প্রশাসক থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আটতলার ওপরেও মশা ভনভন করে। গত তিন মাসে ঠিকমত তিন দিনও মশক নিধনের ওষুধ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া এই ওষুধ দিলেও কোনও লাভ হয় না।’
রোকসানা আক্তার ও মাহবুবুর রহমানের মতো কমবেশি রাজধানীর প্রত্যেকটি নাগরিকের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন থেকে আগের মতো মশক নিধনের ওষুধ দেওয়া হয় না। মশার উপদ্রব বেড়েছে, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শনির আখড়ার দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশের দেখা গেলো ড্রেনে মশা। পরিক্কার করার কোনো উদ্যোগ নেই। ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ চলায় পয়োবর্জ্য ও ময়লা জমে একাকার হয়ে আছে। স্থবির পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। সারা ঢাকা শহরে একই চিত্র। নগরবাসীর অভিযোগ, দুই সিটি করপোরেশনে একাধিকবার প্রশাসক বদল হলেও নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার কারণে ঠিকমতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আসার পর দায়িত্বের খাতিরে হলেও ঠিকঠাক মতো কাজ হবে বলে মনে করেন অনেকে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধনের দাবি করলেও মশা কেন মরছে না, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে মশার ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএসসিসি। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে খতিয়ে দেখবে ওষুধে আসলেই মশা মরছে কিনা এবং কর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কিনা।
ডিএসসিসি’র নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মশক নিধনের বিষয়টি আমি অতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। মশক নিধনের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা আমি আসার সঙ্গে সঙ্গেই দিয়েছি। রাজধানীবাসীর ভোগান্তি হয় এমন সব বিষয় চিহ্নিত করে কীভাবে সমাধান করা যায় তার উদ্যোগ আমরা নেবো। অনেকে তো উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ ছিল, আমি বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।’
নগরবিদরা বলছেন, শুধু ধোঁয়া বা ফগিং দিয়ে মশক নিধন সম্ভব নয়। ফগিং দিয়ে কিছুটা কমলেও লার্ভা ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতাও জরুরি। নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি, খোলা ড্রেন ও জলাবদ্ধ নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ-সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, সিটি করপোরেশনের গাফিলতি স্পষ্ট। তবে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন বা ছাদে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এসব একজন নাগরিকের দায়িত্ব। এটাও যদি সিটি করপোরেশনকে জরিমানা করে করতে হয়— তাহলে তো হয় না।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল পানিপথ ও স্থলপথ উভয় দিক থেকে একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে’। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কার্যকর হবে কিনা সেটাই প্রশ্ন। কারণ তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে অতিকথন শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, রোগীরা নয়, ডাক্তাররা যাবে রোগীদের বাসায়’। বাংলাদেশে এমন চিত্র কেউ কল্পনাও করে না।
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
Copyright © 2026 Shapla News. All rights reserved.