
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ‘শঙ্কা দেখছেন না’ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
এরপরেও শনিবার দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, “মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। এই উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপটাল পুলিশ নিয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।”
পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়ন থাকবে। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধনকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের ‘সফলতার কথা’ তুলে ধরে বলেন, “অত্যন্ত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে জনগণ ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, কোথাও কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না। অমর একুশের অনুষ্ঠানেও কোন নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।”
এরপরেও শহীদ মিনারে নিয়মিত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিংও জোরদার করার করার কথা বলেন তিনি।
সাংবদিবকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আশা করি যে কোনো সমস্যা হবে না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু শহীদ মিনার কেন্দ্রীক হয় না। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরা ঢাকা শহর নিয়ে এবং পুরা ঢাকা শহরকে আমরা সিকিউর রাখার জন্য সকল সময় চেষ্টা করি। এখনো সেই চেষ্টা করে যাব।”
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকরাও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন। ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সাধারণের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারের রাস্তা অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্তর অথবা চানখার পুল হয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করা যাবে।
“শহীদ মিনারে কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন না। সবাই নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করবেন এবং নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে প্রস্থান করবেন। আপনার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যকে সুযোগ দিন এবং শৃঙ্খলা বজা রাখুন।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ড্রাইভারসন চলবে বলে জানিয়েছে কমিশনার।
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক ছাত্র কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেসব ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন।”
শহীদ মিনার কেন্দ্রীক ডাইভারসন ও যান চলাচলের বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, “শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চাংখারপুল ক্রসিং, পলাসি ক্রসিং এবং বক্সিবাজার ক্রসিংয়ে আমাদের ডাইভারসন থাকবে। আমরা যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েছি প্রত্যেকবারের মত, এবারও সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।”
৬৪টি সিসি ক্যামেরা থাকছে: র্যাব
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমানও ।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে একেএম শহিদুর রহমান বলেন, “শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড স্ট্যান্ডবাই থাকবে। এছাড়া ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
“আমাদের কাছে নিরাপত্তাজনিত কোনো নির্দিষ্ট থ্রেট নেই, তবে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
দেশব্যাপী কর্মসূচির নিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এসব কর্মসূচি ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গত দেড় বছরে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।”
আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “আমরা চাই এদেশের মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে যেন কোনো বাধা না আসে, সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখবো।”
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬