
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবার একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
দেশের যেকোনো নির্বাচনে সাধারণত সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
ইসি বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার নির্বাচনের ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।
অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।
৩০০ সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে ইসি।
বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা ফলাফলে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?
জবাবে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। সব কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে’।
ইসির আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা কীভাবে ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো।
একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।
সাড়ে ৪টার পরও যদি কোনো কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সব কক্ষের ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স কেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।
ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।
সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের সব প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সঙ্গে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেওয়া হবে।
এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসার ভোট গণনা শুরু করবেন।
এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
ইসির অতিরিক্ত সিনিয়র সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, ‘আলাদা দুধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে, কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়া যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে’।
এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।
একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে দুটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই’।
দুটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।
সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।
নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, ‘রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধু অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে’।
এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা- সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সঙ্গে মিল থাকতে হবে।
এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।
সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনি সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুটি কপি প্রিসাইডিং অফিসার হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।
কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন ইসিতে।
এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।
এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।
এ কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্তত দুজন সহকার প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়/নির্বাচনি কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসারের (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনা করা ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।
কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগ পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।
Kaderabad Housing Mohmmedpur, Dhaka-1207. Phone- 01778840333
Email: m.r.01778840333@gmail.com
Web: www.shaplanews.com
Copyright © 2026 Shapla News. All rights reserved.